আরও দেখুন
12.05.2026 10:45 AMব্রেন্ট ক্রুডের দর 0.6% বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় $105-এ পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার স্থবিরতা এবং হরমুজ প্রণালীর চলমান অবরোধ নির্দেশ করে যে নিকট ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট বজায় থাকবে। গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, যা দীর্ঘ সময় হরমুজ প্রণালীর অবরোধ বজায় থাকার উদ্বেগকে তীব্র করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার স্থবিরতাই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রধান কারণ। শান্তি স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই আলোচনা ফের আটকে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা আবার বাড়ছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অগ্রগতি না থাকায় সংঘাত আরও তীব্র হলে তেল সরবরাহে আরও উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন ঘটবে বলে আশংকা বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়—এই প্রণালীর অবরোধ অব্যাহত থাকায় জ্বালানি তেলের মূল্যেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব পড়ছে। এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকি মুহূর্তেই জ্বালানি তেলের মূল্যে বাজারে প্রতিফলিত হয়। এই প্রণালী পুনরায় খোলার সময়সূচি অনিশ্চিত থাকায় ট্রেডাররা তেল কিনে রাখছে, যা শেষ পর্যন্ত তেলের দাম বাড়াচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরানের সাথে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি মেনে চলা সম্পর্কিত মন্তব্য বাড়তি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। তাঁর বক্তব্য থেকে এই উদ্বেগ বাড়ছে যে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যা পরিণতিতে সংঘাত তীব্র করে হরমুজ প্রণালী দীর্ঘসময় বন্ধ রাখার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এর ফলে অবশ্যম্ভাবীভাবে নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাবে এবং তা মার্কিন অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি যে, ইরানি নেতৃত্ব তাঁর শর্ত না মানলে আমেরিকা কি পুনরায় সামরিক হামলা শুরু করবে। ট্রাম্প আগে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ প্রহরার পরিকল্পনা পুনরায় চালু করার কথা উল্লেখ করেছিলেন; কিন্তু অতীতে আমরা দেখতে পেয়েছি যে এটি কার্যকর করার কথা বলা যত সহজ মূল কাজ ততটা সহজ নয়। সম্প্রতি এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টায় ইরান থেকে আরও আক্রমণ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পাল্টা ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয়েছে।
তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। তাহলে তেলের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $113.80 লেভেল নির্ধারণক করা যায়। অন্যদিকে, দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $92.50-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা চালাবে। যদি তারা সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তবে এটি বুলিশ পজিশনের উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $86.67 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, সম্ভবত $81.38 পর্যন্ত আরও দরপতন হতে পারে।
You have already liked this post today
*এখানে পোস্ট করা মার্কেট বিশ্লেষণ আপনার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রদান করা হয়, ট্রেড করার নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রদান করা হয় না।

