empty
 
 
15.05.2026 10:12 AM
মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ দরপতনের শিকার হয়েছে

মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পেয়ে প্রায় $4,560 লেভেলে পৌঁছে গিয়েছে।

This image is no longer relevant

খুব সম্ভবত, এই সপ্তাহের শেষের দিকে স্বর্ণের মূল্য ২%-এরও বেশি কমে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল মাসের মুদ্রাস্ফীতির ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও নেতিবাচক এসেছে: দেশটির উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে এবং ভোক্তা মূল্য সূচক ২০২৩ সালের পর থেকে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রেডাররা প্রত্যাশিতভাবেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে: মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে এবং ১০-বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে; এর ফলে দুই দিক থেকে স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে—একদিকে এটি একটি সুদ-বিহীন অ্যাসেট এবং অন্যদিকে এটি মার্কিন ডলার-ভিত্তিক অ্যাসেট।

হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধই রয়েছে, ইরানের সাথে শান্তি আলোচনা থমকে গেছে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দর বর্তমানে ব্যারেল প্রতি $102-এর আশেপাশে অবস্থান করছে। জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং মুদ্রাস্ফীতিও উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক নমনীয় নীতিমালা প্রণয়নের সুযোগ সীমিত করে দিচ্ছে।

মনে হচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশা, বন্ডের ক্রমবর্ধমান লভ্যাংশ এবং শক্তিশালী হতে থাকা ডলার—এই বিষয়গুলো স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের মূল্য ১২%-এরও বেশি কমেছে এবং এটির মূল্য তুলনামূলকভাবে একটি সংকীর্ণ ও স্থিতিশীল সাইডওয়েজ রেঞ্জের মধ্যেই ওঠানামা করছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে এক উভয়সংকটের মুখে পড়েছেন: মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি ভবিষ্যতে সুদের হার বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে; অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা সংক্রান্ত উদ্বেগ তাত্ত্বিকভাবে নমনীয় নীতিমালা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়, যা স্বর্ণকে সহায়তা করতে পারে।

তবে, স্বর্ণের মূল্যের ইতিবাচক ভবিষ্যতের বিষয়টি পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আগামী দিনগুলোতে 'হেজ ফান্ড'গুলো হয়তো তাদের 'লং পজিশন' বা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়াতে শুরু করতে পারে—বিশেষ করে এই আকস্মিক দরপতনের প্রেক্ষাপটে। চীন বর্তমানে ঠিক এই কাজটিই করছে; তারা দরপতনের সুযোগ নিয়ে সক্রিয়ভাবে স্বর্ণ কিনে চলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, রুপার অবস্থান বেশ সুবিধাজনক বলেই মনে হচ্ছে: মে মাসে শিল্পখাতে ব্যবহৃত ধাতুগুলোর প্রতি নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়া স্পেকুলেটিভ ট্রেডিংয়ের আগ্রহের ঢেউয়ে রুপার দর প্রায় ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বর্ণ ও রুপার মূল্যের অনুপাত হ্রাস পেয়েছে, যা রুপার আপেক্ষিক সস্তা হওয়ার বিষয়টিকেই নির্দেশ করছে।

আমি আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, এই সপ্তাহে ভারত স্বর্ণের জন্য আরেকটি নেতিবাচক উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; রুপির মান রক্ষার্থে গৃহীত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটি স্বর্ণ আমদানির নিয়মকানুন আরও কঠোর করেছে। আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির মাত্র কয়েক দিন পরেই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মূল্যবান ধাতুর বাজারে চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

This image is no longer relevant

টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,607-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে স্বর্ণের মূল্যের $4,656-এর দিকে যাইয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,708 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। স্বর্ণের দরপতনের ক্ষেত্রে, এটির মূল্য $4,546-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা করবে। তারা যদি সফল হয় এবং এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হয়, তাহলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর তীব্র আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,481 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে—যেখানে পরবর্তীতে $4,432 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.