আরও দেখুন
শুক্রবারের ট্রেডিংয়ে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোর তুলনায় ব্রিটিশ কারেন্সির মূল্যের মুভমেন্ট সম্পর্কে অনেক কম প্রশ্ন উঠছে। তিন সপ্তাহব্যাপী ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বেশ শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পায়, যা আমাদের মতে সামগ্রিক মৌলিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পুরোপুরি যৌক্তিক ছিল। এরপর এক সপ্তাহব্যাপী একটি কারেকশন শুরু হয়। এটিও যৌক্তিক। সোমবার রাতের দিকে এই পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইনটি ব্রেক করে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কারেকশন হয়তো শেষ হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের নতুন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হচ্ছে, যা সেই সাপ্তাহিক (বা দৈনিক) চার্টে পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার অংশ — যা এক বছর ধরে প্রাসঙ্গিক থাকা সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি টেস্ট করার পর শুরু হয়েছিল। অতএব টেকনিক্যাল দিক থেকে পাউন্ডের মূল্যের প্রায় নিখুঁত মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। শুক্রবারে যুক্তরাজ্যের সার্ভিস ও ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচকগুলোও পাউন্ডকে সহায়তা করেছিল, কিন্তু ট্রেডাররা সেগুলোর প্রতি তেমন মনোযোগ দেয়নি। নতুন সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে ব্রিটিশ কারেন্সি বাড়তি সহায়তা পেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে শুক্রবার বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। প্রথম সিগন্যালটি ফলস প্রমাণিত হয়, যখন বাকি দুটিই একটি অপরটির অনুরূপ ছিল। ফলে নতুন ট্রেডাররা দুটি পজিশন ওপেন করতে পারত, তবে দুর্বল মুভমেন্টের কারণে সিগন্যালগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগানো কঠিন ছিল। তবুও এই সপ্তাহে পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। তিন সপ্তাহব্যাপী উত্থানের পরে একটি কারেকশন দরকার ছিল, তবে তা সম্ভবত ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। টেকনিক্যালভাবে, আসন্ন দিন ও সপ্তাহগুলোতে ব্রিটিশ কারেন্সির মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাই বেশি।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে থেকে বাউন্স করে বা 1.3319-1.3331 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন। গত শুক্রবার গঠিত বাই সিগন্যালগুলো চিন্তা করে লং পজিশনগুলো বজায় রাখা যেতে পারে; এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3380-1.3386 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। সোমবার যুক্তরাজ্যে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো আকর্ষণীয় ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া লক্ষণীয় যে ভূ-রাজনৈতিক কারণে এশীয় সেশনে মার্কিন ডলারের দরপতন হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সপ্তাহের শেষভাগে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।