আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের 'অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের' ওপর দিয়ে দুর্বল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ফলে, ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিতভাবেই অব্যাহত রয়েছে। কারেন্সি মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সহায়তা ছাড়াও ব্রিটিশ পাউন্ডের দর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা; তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই প্রক্রিয়াটিকে আরও ত্বরান্বিত ও সহায়তা করেছে। মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ার মতো কোনো কারণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না—ব্যতিক্রম হতে পারে কেবল তখনই, যদি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ওই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে অথবা বিশ্বজুড়ে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হয়। সেক্ষেত্রে মার্কিন ডলার আবারও একটি 'নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম' হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর চাহিদা বেড়ে যাবে। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচকের তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক এবং খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের নিরপেক্ষ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল ব্রিটিশ পাউন্ডকে জোরালো কোনো সহায়তা প্রদান করেনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচকগুলোর ফলাফলও মার্কিন ডলারের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা বয়ে আনেনি, কারণ ট্রেডাররা মূলত ISM সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করে। শুক্রবার মার্কেটে স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় ছিল।
শুক্রবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে চারটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু সেগুলোর সবগুলোই ফলস বা ভুল ছিল। সেদিন ন্যূনতম অস্থিরতার সাথে এবং বেশিরভাগ সময় সাইডওয়েজ রেঞ্জে এই পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে। নতুন ট্রেডাররা প্রথম দুটি সিগন্যালের ওপর ভিত্তি করে পজিশন ওপেন করতে পারতেন। প্রথম বাই ট্রেডটি স্টপ-লসে ব্রেকইভেনে ক্লোজ হয়ে যায়। দ্বিতীয় লং পজিশনটিতে সামান্য লোকসান হয়।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। মার্কেটে সেপ্টেম্বরে ফেড কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিলীন হতে শুরু করেছে, কারণ সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কিন ডলারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। শুধুমাত্র ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের নিচে এই পেয়ারের মূল্য়ের কনসলিডেশন হলে এই পেয়ারের দরপতনের প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সোমবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3631-1.3641 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3695-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, এবং 1.3741। সোমবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই সারাদিন মার্কেটে আবারও স্বল্পমাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। আজ মূলত টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করেই ট্রেডিং করা হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।