empty
 
 
16.09.2026 10:49 AM
4% মূল্য বৃদ্ধির পর জ্বালানি তেলের কিছুটা দরপতন ঘটেছে

সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, সেই আশংকা অতিরিক্ত মনে হওয়ায় কিছুটা দরপতন ঘটেছে এবং একটি প্রতিবেদন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। আজই ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তাই মার্কেটে অতিরিক্ত ক্রয়কৃত এই জ্বালানি তেলভিত্তিক ট্রেডিং অ্যাসেট থেকে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

This image is no longer relevant

গত দুই সেশনে 4% বৃদ্ধির পর আজ ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের দাম কিছুটা কমে প্রতি ব্যারেল $108-এ নেমে এসেছে এবং ডব্লিউটিআই গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর $105-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং লিবিয়া থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই সম্প্রতি তেলের মূল্যের এই বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল।

এই দরপতনের আরেকটি কারণ ছিল আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদন। সংস্থাটি কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুদ 7.1 মিলিয়ন ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিস্টিলেটের মজুদও বেড়েছে। বুধবার দিনের শেষভাগে এ সংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; ট্রেডাররা এখন এটা বোঝার জন্য সেই প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা যে, বর্তমান দরপতন বা কারেকশন অব্যাহত থাকবে নাকি জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা (rally) আবার শুরু হবে। এর সরাসরি প্রভাব হলো—মজুদ বেড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি আর জোরালো থাকছে না, যার ফলে যেসব বিনিয়োগকারী মূল্য বৃদ্ধির আশায় আগে লং পজিশন ওপেন করেছিলেন, তারা এখন আংশিকভাবে সেই পজিশন ক্লোজ শুরু করেছেন।

সাময়িক বিরতি সত্ত্বেও, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে জ্বালানি তেলের মূল্যের উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানি মূল্যের তীব্র বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে; এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) আজ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে তেল রপ্তানিকারক দেশ ও যারা আগে থেকেই তেলের 'লং পজিশন' ওপেন করেছেন তারা লাভবান হচ্ছেন। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জ্বালানি ব্যবহারকারী এবং সেইসব কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যারা মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় মুদ্রানীতি করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো সৌদি আরবের পাইপলাইনটি ঠিক কবে পুনরায় চালু হবে তা নিয়ে অস্পষ্টতা—যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন যে, মাত্র কয়েক দিনই এই অচলাবস্থা বজায় থাকবে। এই সরবরাহ বিঘ্নতার কারণে সৌদি আরামকো ইউরোপের কিছু গ্রাহকের কাছে জ্বালানি পণ্য সরবরাহে বিলম্ব করছে, ফলে ক্রেতারা বিকল্প উৎসের সন্ধানে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অন্য অঞ্চলের সরবরাহকারীরা লাভবান হচ্ছেন, যারা সৌদি সরবরাহের ঘাটতি পূরণে জরুরি ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করতে সক্ষম।

পাশাপাশি ট্রেডাররা ইয়েমেনের পরিস্থিতির ওপরও নজর রাখছেন। সেখানে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা স্থানীয় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্রসর হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরব ও দেশটির নৌ-চলাচল রুটে হামলা জোরদার করেছে এবং লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রণালী 'বাব আল-মান্দেব প্রণালী'র দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

This image is no longer relevant

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $104.70-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $109.30-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.40 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $100-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $96.54 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.