আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মন্থর নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এবার মূলত ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের ফলাফলের প্রভাবে পাউন্ডের দরপতন ঘটেছে, যা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিল। ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড আর্থিক নীতিমালা কঠোর করেনি, তবে কোনো ট্রেডারই এমন সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করেননি। প্রত্যাশা অনুযায়ী, ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের মনিটারি পলিসি কমিটির তিনজন সদস্য সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে এবং ছয়জন সদস্য সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তাহলে কেনন পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দরপতন হলো? কারণ গত এক সপ্তাহ ধরে একটিমাত্র বিষয়ের প্রভাবে পাউন্ডের দরপতন ঘটছে —আর তা হলো ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি সংক্রান্ত অবস্থান—যার প্রেক্ষিতে মার্কেটে ইতোমধ্যে তৃতীয় বা চতুর্থবারের মতো নতুন করে ইন্সট্রুমেন্টের মূল্য নির্ধারিত হচ্ছে। ডলারের দর বৃদ্ধির পেছনে অন্য কোনো কারণ কাজ করছে না। ট্রেন্ডলাইন থেকে এটি স্পষ্ট যে, ঘণ্টাভিত্তিক চার্টে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা এখনো বজায় রয়েছে। মার্কেটের এমন একপেশে পরিস্থিতি যতদিন বজায় থাকবে, ততদিন মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধির প্রবণতাও অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে চারটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল—যার প্রতিটিই আগেরটির চেয়ে দুর্বল ছিল। ইউরোপীয় সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া থেকে দুইবার বাউন্স করার চেষ্টা করলেও কোনোবারই 20 পিপসের বেশি এগোতে পারেনি। এরপর ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের পর পাউন্ড স্টার্লিংয়ের দরপতন ঘটে এবং একই জোনে দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়। চতুর্থ সিগন্যালের ক্ষেত্রেই কেবল এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কাঙ্ক্ষিত অভিমুখে 20 পিপসের বেশি মুভমেন্ট প্রদর্শন করে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং তা এখন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রবণতায় রূপ নিচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় মার্কিন ডলার ও পাউন্ডের ক্ষেত্রে মৌলিক প্রেক্ষাপটের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে, কারণ ফেডারেল রিজার্ভ মুদ্রানীতি কঠোর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে, ২০২৬ সালে মার্কিন ডলারের সার্বিক পরিস্থিতি আবারও উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়া অতিক্রম করতে ব্যর্থ হলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319–1.3331-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380–1.3386 এরিয়ার উপর অবস্থান গ্রহণ করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456–1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3380–1.3386, 1.3456–1.3476, 1.3587–1.3598, 1.3631–1.3641, 1.3695, 1.3741। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে খুচরা বিক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে শিল্পোৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। বিশেষ করে এমন একটি ব্যস্ত সপ্তাহের পর, আমরা প্রকাশিতব্য উভয় প্রতিবেদনকেই অপেক্ষাকৃত স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে বিবেচনা করছি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।